শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে স্ত্রীরই আপন ভাবির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে ইব্রাহিম (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে বেধড়ক মারধরের পর দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বাড়িওয়ালা। এমনকি স্ত্রীকে থামানোর জন্য তার শাশুড়িকেও বিয়ে করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী!
সোমবার (২ আগস্ট) রাতে শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামে রাজ্জাক বেপারীর ভাড়া বাড়িতে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী স্ত্রী শিল্পী আক্তার শ্রীপুর থানায় ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত ইব্রাহিম ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সাইলটিয়া ইউনিয়নের শিলাশী গ্রামের শাহাবউদ্দীনের ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিল্পী আক্তার নরসিংদীর শিবপুর থানার লেটারবর বাজার এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম ও শিল্পী আক্তারের ঘরে রায়হান (১১) ও রাফি (৬) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। ব্যবসার মালামাল রাখার অজুহাতে ইব্রাহিম প্রায়ই শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন। সেখানে যাতায়াতের সুবাদে স্ত্রীর আপন ভাবির সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তিনি। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে স্ত্রীর ওপর অত্যাচার শুরু করেন ইব্রাহিম। একপর্যায়ে ভাবিকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তিনি। উল্লেখ্য, ওই ভাবির ঘরেও দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।
পরবর্তীতে একই ঘরে ভাবিকে নিয়ে সংসার করতে স্ত্রীকে বাধ্য করার চেষ্টা করেন ইব্রাহিম। এতে শিল্পী আক্তার রাজি না হলে তাকে মারধর করা হয় এবং শাশুড়িকেও বিয়ে করার হুমকি দেওয়া হয়। সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার একপর্যায়ে বাড়ির মালিক রাজ্জাক বেপারীর সহায়তায় শিল্পী আক্তারকে দুই সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সারা রাত দুই দুধের শিশুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয় ভুক্তভোগী এই নারীকে।
পরকীয়ার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত ইব্রাহিম বলেন, “শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সুবাদে ভাবির সাথে সম্পর্ক হয়, পরে তাকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছি।” শাশুড়িকে আমি বিয়ের প্রস্তাব দেইনি।
ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বাড়ির মালিক রাজ্জাক বেপারী বলেন, “স্বামী-স্ত্রী মারামারি করছিল, তাই দুজনকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, “ভুক্তভোগী নারী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য গেছে, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”