শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৪
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ওশিন স্পিনিং মিল লিঃ কারখানার শ্রমিকরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে অন্তত চারজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কারখানার শ্রমিকেরা জানান, এই কারখানায় ৬ শত ২৫ জন শ্রমিক কাজ করে, তাদের প্রতিষ্ঠানে দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় এবং সময়মতো বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।

আন্দোলনরত শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, “আমাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও টাকা দেয়নি। পরিবার নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”

অপর শ্রমিক সালমা খাতুন ও হাজেরা বেগম বলেন, “দুই মাস ধরে কারখানা বন্ধ, দোকান ও বাসাভাড়া বাকি পড়ে আছে। বাধ্য হয়েই আমরা বকেয়া পাওনার দাবিতে রাস্তায় নেমেছি।”
শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে ধাক্কাধাক্কি ও লাঠিপেটা করে। এতে চারজন শ্রমিক আহত হন, যাদের পরে উদ্ধার করে দুজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তাড়া খেয়ে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেন। দ্রুত দাবি আদায় না হলে আবারও আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। পরে রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান করেন।তবে লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. স্বপন কুমার জানান, শ্রমিকেরা প্রায় ২০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। পুলিশ গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তিনি দাবি করেন, লাঠি চার্জের ঘটনা ঘটেনি; দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা রেখা নাগ জানান, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।সর্বশেষ আগামী বৃহস্পতিবার বেতনের অর্ধেক শ্রমিকদের পরিশোধ করা হবে এবং তার পরের বৃহস্পতিবার বাকি অর্ধেক পরিশোধ করা হবে। আগামীকাল কাল থেকে আমরা গ্যাস পাবো কারখানা শ্রমিকরা কাজ করতে পারবে।