গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার মাকে (৩৮) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার এক প্রবাসীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ মো. রাজীব (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ, স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে শরীফ মিয়া (২৩) ও আরিফ মিয়াসহ (২১) পাঁচজন যুবক ওই প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পানি চান। প্রবাসীর কিশোর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে দুর্বৃত্তরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর চালিয়ে বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা ৫ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, নির্যাতন চালানোর সময় রাজীব নামের যুবকটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার পর তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এক নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটকের পূর্বে রাজীব ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত ফোনটি পানিতে ফেলে দিলে পরবর্তীতে পুলিশ তা উদ্ধার করে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী নারী ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী দুজন সরাসরি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং বাকিরা সহযোগিতা ও পাহারায় ছিল। টাকা লুট ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী নারীর মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।