শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
দৈনিক তৃতীয় মাত্রা, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক আজকের পত্রিকা, আনন্দ টেলিভিশন ও এটিএন বাংলাসহ দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে প্রশাসনের। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজার থেকে দমদমা চৌরাস্তা পর্যন্ত নবনির্মিত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনাটি এবার সরাসরি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।
শনিবার বিকেলে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, রাস্তাটি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশেই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ছুটে এসেছেন।

ধসে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন:
”এখানে একটি কবরস্থানকে সম্মান দেখাতে গিয়ে সড়কটি খালের দিকে একটু বেশি চাপিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মাটির গঠন দুর্বল থাকায় খালের পাশের প্রায় ৮৩ মিটার এলাকার মাটি সরে গিয়ে সড়কটি ধসে পড়েছে। ঠিকাদারের জামানতের টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি এবং কাজে তার কতটুকু ত্রুটি ছিল, তা অলরেডি নোটিশে আনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থায়ী ও টেকসইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে।”
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম, এলজিইডির ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বাবুল আখতার, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন শুক্রবার দৈনিক তৃতীয় মাত্রা-য় ‘৯ কোটি টাকার সড়ক ৮ মাসেই নদীতে; গাজীপুরে ঠিকাদারের গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা সদরে সহজে যাতায়াতের জন্য ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২৪ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয় ২০২৬ সালে।
কিন্তু হস্তান্তরের মাত্র ৮ মাসের মাথায় সূতি নদী ঘেঁষে যাওয়া চিনাশুকানিয়া গ্রামের একটি বিশাল অংশ নদীগর্ভে দেবে যায় এবং নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে বিলীন হতে শুরু করে। এতে স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার কারণেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দ্রুত এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।