শ্রীপুরে পারিবারিক কলহে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সীমা রানী দাস (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে লাঠির আঘাত ও ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে হত্যার কথা জানালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

নিহত সীমা রানী দাস দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃত স্বামী উদ্ভব চন্দ্র দাস (৩২) শ্রীপুর উপজেলার বড়চালা গ্রামের নুকোল চন্দ্র দাসের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ভব কোনো কাজকর্ম করতো না এবং সে মাদকাসক্ত ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এর আগে সীমা রানীর অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল, সেখানে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই উদ্ভব বেশ একগুঁয়ে প্রকৃতির ছিল এবং বাড়িতে আশপাশের কাউকে ভিড়তে দিত না। সে বাড়িতে স্ত্রী, তার বাবা ও বড় বোনকে নিয়ে বসবাস করতো।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, রোববার রাতে ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্ভব লাঠি দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে। পরে ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সীমা রানীকে রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করে।
হত্যার পর উদ্ভব চন্দ্র দাস নিজেই ৯৯৯-এ কল দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার কথা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, “স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী নিজেই ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”