শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার ক্ষণিকা সভাকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ে এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মাহফুল হাসান হান্নান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাহাউদ্দীন, প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকেরা।
প্রেস কনফারেন্সে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউএনও মো. নাহিদ ভূঞা। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে শ্রীপুরের প্রহলাদপুর ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
বক্তব্যে আরো জানানো হয়, গত জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদ করা প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সব পরিবারকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী, ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ তুলনামূলক কম স্কোর পাওয়া পরিবারের নারীপ্রধানেরা ভাতা পাবেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী একযোগে সব এলাকার খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে।
নিয়োজিত কর্মীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট যন্ত্রের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মোবাইল সিমকার্ড নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ পদ্ধতিতে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে গণনা করা হবে। পিএমটি পদ্ধতিতে তৈরি তথ্যভান্ডার থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।